1. admin@dainiksomoy24.com : admin :
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
২০১৮ সাল থেকে সংবাদ পরিবেশনে জনপ্রিয় দৈনিক সময় ২৪.কম। সারা বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা এবং স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে যোগাযোগ করুন 01716605694

অবহেলিত জেলে জীবন

দৈনিক সময়ের পত্রিকা ২৪.কম
  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২
  • ১১৩ বার পঠিত

 

অবহেলিত জেলে জীবন

 

 

 

 

বঙ্গোপসাগরে কোলঘেঁষা বাংলাদেশের দ্বিতীয় মৎস অবতরণ কেন্দ্র বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা।

 

 

 

এখান থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আয় করে। সে তুলনায় প্রান্তিক জেলেদের পিছনে ব্যয় করে না বললেই চলে। আবার মরার উপর খাঁড়ার ঘা নামক অবরোধ তো কয়েকদিন পরপর দিয়েই রাখে। অবরোধের সময় পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেরা আমাদের জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায় এমন অভিযোগ অস্বীকার করার মত নয়। অবরোধের ফাঁকে যে কয়টা খেপ দিতে পারে জেলেরা তা যেমন যথেষ্ট নয় তেমনি আছে সমুদ্রে ঝড়ঝঞ্ঝা।

 

 

 

 

 

 

প্রতিবছর সমুদ্র বেশ কয়েকবার ঝড়ঝঞ্ঝার কবলে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলে। এ সময় সমুদ্র বেশি উত্তাল হয়। এই উত্তাল সমুদ্রে মাছ ধরতে বের হয় সারি সারি ট্রয়ালার। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। হঠাৎ হঠাৎ ঝড়রে কবলেও পড়ে। অশান্ত তুফানে ডুবে যায় ট্রয়ালার। জীবিকার একমাত্র সম্ভল ট্রয়ালার হারিয়ে কেউ কেউ সাত আটদিন সমুদ্রের লোনা পানির সাথে সাঁতরে লড়াই করে। কখনও বা হাঙর এসে কামড়ে নিয়ে যায় শরীরের একাংশ। রক্তপাত, ক্ষত আর যন্ত্রণায় একসময় নিস্তব্দ হয়ে যায় জেলে শরীর। তলিয়ে যায় গহীন সমুদ্রে।

 

 

 

 

 

অবশেষে লাশটা খুঁটেখুঁটে খায় সমুদ্রের মাছেরা। আর যদি কপাল ভালো হয়। যদি হাঙরের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পারে। অথবা অল্প ক্ষতো নিয়ে ভাগ্যক্রমে যদি কূল পায়। তারপরেও নিস্তার হয় না। কারণ সুবিশাল সমুদ্র তীরের কোথায় সে উঠেছে তা নিজেও জানে না। দ্বিগবিদিক ছুটতে থাকে। দ্বীপের লতা পাতা খেয়ে কিছুদিন বাঁচে। আর তীক্ষদৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে থাকে বিশাল সমুদ্রের দিকে যদি কোন ভোট আসে অথবা কোন জাহাজ আসে তাকে উদ্ধার করে নিতে।

 

 

 

 

 

এমনই অপেক্ষার যন্ত্রণা নিয়ে সময় কাঁটতে থাকে। ক্ষধা, ব্যথা আর হতাশায় একসময় নিস্তেজ হয়ে পড়ে কূল পাওয়ার পরেও সেই মানুষটি। কারণ তাকে বাঁচাতে কেউ এগিযে আসেনি। সৌভাগ্য বসত কেউ আবার বেঁচে ফিরে আসে। বেঁচে ফিরে আসা মানুষটার মুখে আমরা বীরত্বের গল্প শুনি। কিন্তু ভুলে যাই জেলেদের প্রতি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কর্তব্যে অবহেলার কথা। যে জেলেদের দ্বারা প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আসে।

 

 

 

 

 

 

সে জেলেদের প্রতি কতৃপক্ষের কেবল অবহেলাই চোখে পড়ে। ঝড় বন্যার সময় কেবল দায়সারা ৩নং/৪নং সিগনাল জানিয়ে দিয়েই তারা চুপ থাকে। অথচ ঝড়ের কবলে পড়া হাজার হাজার ট্রয়াল উদ্ধারের কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করে না। ঝড় থেমে গেলে কোন রিস্কিউ কমিটি গঠন করা হয় না। গভীর সমুদ্রে কোন জাহাজ পাঠানো হয় না। নদীতে ভাসমান অসহায় জেলেদের খোঁজ নিতে কেউ কোন উদ্যোগ নেয় না। পানার মতো ভাসতে ভাসতে একসময় হারিয়ে যায় শত শত জেলে প্রাণ।

 

 

 

 

 

এভাবে চলতে পারে না। কর্তপক্ষের উচিৎ আগাম প্রস্তুত থাকা। এবং ঝড় বন্যার আগেও পরে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যাতে জেলেদের অর্থহানী ও প্রাণহানি দুটোই কমবে।

 

 

লেখক: মোঃ হাফিজুর রাহমান।(

বহুমাত্রিক লেখক)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা